মার্কিন নৌবাহিনীর ঘোষিত অবরোধ সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। ইরানের স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টায় অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, অন্তত ২৫টি জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করে যাতায়াত করেছে।
একই সময়ে আরও ১৩টি জাহাজ প্রণালির আশপাশ এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে এমন পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, অবরোধ অতিক্রম করা জাহাজগুলোর মধ্যে চারটি ছিল তেলবাহী ট্যাঙ্কার। এর মধ্যে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘ক্রিশ্চিয়ানা’, নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত ‘রিচ স্টারি’ ও ‘মুরলীকিষাণ’, এবং পানামার পতাকাবাহী ‘পিস গালফ’ উল্লেখযোগ্য। তবে এসব ট্যাঙ্কার গোয়াদর উপসাগর ও ওমানের রাস আল হাদ্দের কাছে মার্কিন অবরোধ রেখার সামনে এসে থেমে থাকতে দেখা গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন নৌবাহিনী গোয়াদর উপসাগর থেকে রাস আল হাদ্দ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সামুদ্রিক রেখা বরাবর অবরোধ কার্যকর করছে। এর ফলে পারস্য উপসাগরের ভেতরে প্রায় দুই হাজার জাহাজ আটকে পড়েছে এবং আরও প্রায় ৪০০ জাহাজ প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
শিপিং পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম ট্যাঙ্কারট্রাফিক জানিয়েছে, অনেক জাহাজ নিজেদের প্রকৃত অবস্থান ও পরিচয় গোপন রাখতে ভুয়া অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) সিগন্যাল ব্যবহার করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
Bnc News -এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই এই উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। এরপর সোমবার থেকে অবরোধ কার্যকর করার নির্দেশ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের পক্ষ থেকে এই জলপথে নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্যোগের জবাব হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নেয়।
সবশেষ খবর সবার আগে পেতে Bnc news-এর সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের bncbd.com ভিজিট করুন।
