শিরোনাম ::
শিরোনাম ::
Advertisement

রূপসা ঘাটে অনিয়মের স্বর্গরাজ্য, অতিষ্ঠ যাত্রীরা

প্রকাশঃ
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...

খুলনার আলোচিত রূপসা ঘাটে টোল আদায়, যাত্রী পারাপার ও ঘাট পরিচালনায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ঘাটে ভাড়া নির্ধারণের কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না। পাশাপাশি অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অপ্রাপ্তবয়স্ক মাঝিদের ট্রলার চালানো, মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য এবং মাঝি সংঘের তদারকির অভাবে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত এই রূপসা ঘাট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষ পারাপার হয়ে থাকে। দিন-রাত বিরামহীনভাবে চলা এ ঘাটে যাত্রী নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

Bnc News-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই দিনের বেলায় চার টাকার নির্ধারিত ভাড়া পাঁচ টাকা নেওয়া হচ্ছে। আবার রাত ১০টার পর অধিকাংশ ট্রলার মাঝি যাত্রীপ্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। এছাড়া ছোট ট্রলারে ২০ জন ও বড় ট্রলারে ২৫ জন যাত্রী বহনের নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ ট্রলারে ৪০ থেকে ৫০ জন পর্যন্ত যাত্রী তোলা হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত মাঝিরা তাদের ট্রলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অনভিজ্ঞ যুবকদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। এদের অনেকেই মাদকাসক্ত বলে স্থানীয়দের দাবি। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঘাটের নিয়ন্ত্রণ অনেকটা এসব যুবকদের হাতেই চলে যায়। এতে নারী, শিশু ও নিয়মিত যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

মাঝি সংঘের নির্বাচিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও রয়েছে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচনে ১২ জন কর্মকর্তা নির্বাচিত হলেও বর্তমানে কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ জনে। অনির্বাচিত ব্যক্তিরাই মূলত ঘাট নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

রূপসা উপজেলার দেবীপুর গ্রামের বাসিন্দা সিরাজ Bnc News-কে জানান, ঘাটে এখন কোনো নিয়ম নেই। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। দিনে পাঁচ টাকা ও রাতে ১০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যাত্রীর চাপ বাড়ায় অনিয়মও বেড়েছে। প্রশাসন কিংবা বিআইডব্লিউটিএ’র কোনো নজরদারি চোখে পড়ছে না।

এর আগে গত বছরের ৯ নভেম্বর রাতে যাত্রীবাহী ট্রলার থেকে পড়ে শেখ মহিদুল হক মিঠু নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ হন। ঘটনার তিন দিন পর রূপসা রেলব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে নৌপুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। ওই ঘটনার পরও ঘাটে শৃঙ্খলা ফেরেনি বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে শুক্রবার রাত পৌনে আটটার দিকে মাঝি সংঘের সভাপতি হালিম চৌকিদারের ০১৩০৪-৫৬২৯৭১ নম্বর এবং সাধারণ সম্পাদক হারেজ হাওলাদারের ০১৯৬৫-৫৩২৫৫১ নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রিক্তা Bnc News-কে বলেন, ঘাটে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না হয় সে বিষয়ে মনিটরিং জোরদার করা হবে। পাশাপাশি মাঝি সংঘের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সবশেষ খবর সবার আগে পেতে Bnc news-এর সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের bncbd.com ভিজিট করুন।

×

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%

একটি মন্তব্য করুন